“কেয়ার ইউর বেবি
(CUB)” শিশুদের জন্য যে শিক্ষাসামগ্রী ব্যাগ তৈরি করেছে, সেখানে ইসলামিক ক্যালিগ্রাফির
ব্যবহার অনেকের কাছেই একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত বলে মনে হতে পারে। কেউ কেউ ভাবতে পারেন,
এটি শুধুমাত্র একটি ইউনিক প্রোডাক্ট তৈরি করে ব্যবসায়িক সুযোগ (business
opportunity) সৃষ্টি করার কৌশল। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই ক্যালিগ্রাফির পেছনে রয়েছে
আরও গভীর একটি দর্শন ও সামাজিক বার্তা।
একটু পেছনে তাকালেই
আমরা দেখতে পাই, আজ থেকে দশ বা বিশ বছর আগেও শিক্ষা উপকরণ যেমন—স্কুল ব্যাগ, বই, খাতা,
পেন্সিল, জ্যামিতি বক্স—এসব জিনিস আমরা একধরনের শ্রদ্ধা ও যত্নের সাথে ব্যবহার করতাম।
ব্যাগ মাটিতে ছুঁড়ে ফেলা, বইয়ের উপর বসা বা খাতার প্রতি অবহেলা তখন খুব একটা দেখা
যেত না। কিন্তু বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণগুলোর প্রতি সেই শ্রদ্ধাবোধ
ও আন্তরিকতা আগের মতো দৃশ্যমান নয়।
এই বাস্তবতা থেকেই
CUB একটি ভিন্নভাবে ভাবতে শুরু করে। যদি শিশুদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত একটি জিনিস—যেমন
স্কুল ব্যাগ—এর ডিজাইনের মধ্যেই এমন কিছু যুক্ত করা যায়, যা তাদের মনে সম্মানবোধ,
মূল্যবোধ এবং চিন্তাগত প্রভাব ফেলতে পারে? ঠিক এখান থেকেই ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ব্যবহারের
ধারণাটি আসে।
ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি
কেবল একটি সুন্দর নকশা নয়; এটি বহন করে একটি চিন্তাধারা, একটি সংস্কৃতি এবং একটি আধ্যাত্মিক
আবহ। যখন একটি শিশুর ব্যাগে ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি, কোনো অর্থবহ শব্দ, কিংবা প্রতীকী
ইসলামিক চিত্র থাকে, তখন সেটি অজান্তেই শিশুর মনে আলাদা একটি অনুভূতি তৈরি করে। ব্যাগটি
আর শুধু একটি বহনযোগ্য জিনিস থাকে না; বরং সেটি হয়ে ওঠে সম্মানযোগ্য কিছু। এর প্রভাব
পড়ে শিশুর আচরণে, চিন্তায় এবং ধীরে ধীরে তার আচার-আচরণেও।
আমাদের লক্ষ্য
শুধুমাত্র একটি ব্র্যান্ড বা একটি পণ্যের মধ্যে এই ভাবনাকে সীমাবদ্ধ রাখা নয়। আমরা
চাই, এই ইসলামিক ডিজাইন ও দর্শন ব্যবহার করে শিক্ষা উপকরণ তৈরি হোক দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের
মাধ্যমে। স্কুল ব্যাগ, খাতা, পেন্সিল বক্স—সবকিছু যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার
মধ্যে আসে। যদি তা সম্ভব হয়, তাহলে সারা বাংলাদেশে একটি নতুন, ইতিবাচক ট্রেন্ড তৈরি
হতে পারে।
এই ট্রেন্ড এমন
হবে, যেখানে ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম কিংবা ধর্মীয় শিক্ষা—যে মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী
পড়াশোনা করুক না কেন—তার মধ্যে পড়াশোনা, শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক,
অভিভাবক এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকবে।
শেষ পর্যন্ত, ইসলামিক
ক্যালিগ্রাফি আমাদের কাছে কোনো অলংকার নয়—এটি একটি মাধ্যম। একটি মাধ্যম, যার মাধ্যমে
আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে মূল্যবোধ, শালীনতা ও সম্মানবোধের বীজ বপন করতে চাই।
